সাপ্তাহিক লেনদেনের শুরুর দিনই আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ পর্যায়ে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় স্থানীয় সময় রোববার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের ফল নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে আসছে পরিবর্তন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাও জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে গতকাল ঊর্ধ্বমুখী ছিল জ্বালানিপণ্যটির দর। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল বড়েছে ব্যারেলে ১ ডলার ২৭ সেন্ট বা ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬১ ডলার ৯১ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ২৯ সেন্ট বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে ৫৮ ডলার শূন্য ৩ সেন্টে। এর আগে গত শুক্রবার উভয় বাজার আদর্শের দাম কমেছিল ২ শতাংশের বেশি। সে সময় বিনিয়োগকারীরা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একটি চুক্তির দিকে আমরা অনেকটাই কাছাকাছি, হয়তো খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। তবে বিতর্কিত দনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে।’
ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে বৈঠকের পর রোববার বিকালে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। সেখানে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা সফল হবে কিনা, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।
উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে চায়না ফিউচার্সের জ্বালানি ও রাসায়নিক খাতের প্রধান গবেষক মিংইউ গাও বলেন, ‘আঞ্চলিক বিষয়গুলোয় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেন শান্তি চুক্তি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছি না।’
চীনে অবস্থিত হাইতং ফিউচার্সের বিশ্লেষক ইয়াং আন বলেন, ‘গত সপ্তাহান্তে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অন্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল। এতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যেও অস্থিরতা বেড়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলা চলছে। একই সঙ্গে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। এসব কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে ডব্লিউটিআই কেনাবেচা হতে পারে প্রতি ব্যারেল ৫৫-৬০ ডলারে। একই সঙ্গে ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ এবং নাইজেরিয়ায় আইএসআইএস লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাব্য প্রভাবের দিকেও বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন। নাইজেরিয়ায় দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়।